পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে রাজা রাধাকান্ত দেবের ভূমিকা

Madhyamiklearning | Madhyamiklearning.blogspot.com |Madhyamik History Suggestion |Class Ten History Notes | Wbbse History Suggestion 
Madhyamiklearning.blogspot.com


পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে রাজা রাধাকান্ত দেবের ভূমিকা আলোচনা করো | 

প্রশ্ন:- বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে রাজা রাধাকান্ত দেবের ভূমিকা আলোচনা করো |

ভূমিকা :- রাজা রাধাকান্ত দেবউনিশ শতকে বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি এক দিকে ছিলেন হিন্দুসমাজের রক্ষণশীলতার প্রতীক, অন্যদিকে তিনি ছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের সমর্থক। আসলে তিনি চেয়েছিলেন ‘প্রাচ্যবাদী শিক্ষার কাঠামোর মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিকাশ’।

শিক্ষার প্রসার

রাজা রাধাকান্ত দেব ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের জন্য চেষ্টা চালান। তিনি নিজের পরিবারের মহিলাদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ইংরেজ শিক্ষিকা নিযুক্ত করেন।

হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা

১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় হিন্দু কলেজ (বর্তমান প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি ডেভিড হেয়ার, বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়, স্যার হাইড ইস্ট প্রমুখের সঙ্গে মিলিতভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি এই কলেজের পরিচালকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি এই কলেজের অধিকর্তা ও কর্মাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগ

রাধাকান্ত দেব পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত স্কুল বুক সোসাইটির (১৮১৭ খ্রি.) সঙ্গে যুক্তছিলেন। তিনি ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটির (১৮১৮ খ্রি.) ভারতীয় সম্পাদক ছিলেন।

নারী শিক্ষা

রাধাকান্ত দেব নারীশিক্ষার ক্ষেত্রেও পাশ্চাত্য শিক্ষাকে প্রাধান্য দেন। তিনি ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে ‘স্ত্রীশিক্ষা বিধায়ক’ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। নারীশিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ নিতে তিনি ডব্লিউ এইচ পিয়ার্স-কে এক পত্রের (১৮২১ খ্রি.) দ্বারা অনুরোধ জানান।

চিকিৎসা বিদ্যা

আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে শবদেহের ব্যবচ্ছেদ একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। সেই সময় সামাজিকভাবে এই কাজ নিষিদ্ধ হলেও রাধাকান্ত দেব কলকাতা মেডিকেল কলেজের হিন্দু ছাত্রদের শব ব্যবচ্ছেদকে সমর্থন করেন।

গ্ৰন্থ অনুবাদে উৎসাহ দান-

রাধাকান্ত দেব বিভিন্ন ইংরেজিসাহিত্য ও পাশ্চাত্য বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদের জন্য হিন্দু কলেজের ছাত্রদের উৎসাহিত করেন।

উপসংহার :- রাজা রাধাকান্ত দেব একজন হিন্দু রক্ষণশীল হয়েও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ গ্ৰহণ করেন। সতীদাহ প্রথার মতো কু-প্রথাকে সমর্থন করার জন্য তাঁর ভাবমূর্তি কিছুটা মলিন হয়েছে ঠিকই, তবে পাশ্চাত্য শিক্ষা, নারীশিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।