Madhyamik History Notes | Madhyamiklearning |
Madhyamiklearning.blogspot.com
প্রশ্ন-'জীবনের ঝরাপাতা' নামক আত্মজীবনী আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদানরূপে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বিশ্লেষণ করো।*** অথবা, সরলা দেবী চৌধুরানীর জাত্মজীবনী জীবনের ঝরাপাতা ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে কতখানি সহায়ক হয়েছে?
Ans. ভূমিকা: "জীবনের ঝরাপাতা" হল সরলা দেবী চৌধুরানীর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। সরলা দেবী চৌধুরানী ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন স্বর্ণকুমারী দেবীর মেয়ে। জীবনের করাগাতা কাহিনীটি দেশ পত্রিকায় 1944-45 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। জীবনের করাপাতা থেকে সমকালীন ইতিহাস এর বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়-
1. ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলঃ- এই গ্রন্থ থেকে ঠাকুর বাড়ির শিশুদের জীবনচর্চা, মুথমা-রাইমা দিয়ে সন্তান পালন, গৃহশিক্ষক প্রথা, নারী শিক্ষা জন্মদিন পালন ইত্যাদি কথা আনা যায়।
2. স্বাদেশিকতাঃ- বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশী আন্দোলনের সময় সরলা দেবী চৌধুরানী স্বদেশী জব্যের উৎপাদন ও ব্যবহারের প্রচার করার জন্য লক্ষীর ডান্ডার নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন। 1910 সালে জাতীয় কংগ্রেসের এলাহাবাদে অধিবেশনের সময় তিনি নিখিল ভারত মহিলা সম্মেলন আহবান করেন এবং তাঁরই উদ্যোগে 1911 খ্রিস্টাব্দে ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
3.অর্থনৈতিক শোষণের ইতিহাসঃ- নীল চাষীদের, নাখানের কুলিদের ও মজুরদের ওপর ব্রিটিশদের অত্যাচারের কথা, অবিচারের কথা তিনি জীবনের ঝরাপাতায় লিখেছিলেন। সরলা দেবী চৌধুরানী ভারতী পত্রিকায় বিলিতি যুখি বনাম দেশি কিল নামে একটি প্রবন্ধ উপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন তা জানা যায়।
4. রাজনৈতিক কার্যকলাপ:- বাঙ্গালী যুবকদের স্বাধীনতা সংগ্রামে উপযুক্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের অস্ত্র শিক্ষা প্রদানের জন্য গড়ে তোলেন প্রতাপাদিত্য উৎসব, উদয়াদিত্য উৎসব, বীরাষ্টমী ব্রত ইত্যাদি। এছাড়াও জীবনের ঝরাপাতা থেকে সমকালীন সমাজে নারী শিক্ষা, নারী সমাজের বিভিন্ন আদব-কায়না ও ব্রাহ্মসমাজের কার্যকলাপের কথা জানা যায়।
উপসংহারঃ- জীবনের করাপাড়া প্রন্থে সরলা দেবীর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও উপলব্ধির কথা লেখা আছে। তবে আধুনিক ইতিহাসচটায় এই গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসচর্চার এক অপরিহার্য দলিল।
প্রশ্ন : আধুনিক ভারতের ইতিহাসচর্চার উপাদানরূপে সরকারি নথিপত্রকে কীভাবে ব্যবহার করা হয় তা বিশ্লেষণ করো।। অথবা, ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সরকারি নথিপত্রের সীমাবদ্ধতা লেখো।
Ans. আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সরকারি নথিপত্র। এই সরকারি নথিপত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন পদাধিকারী যেমন পুলিশ গোয়েন্দা বা সরকারি আধিকারিকদের রিপোর্ট-প্রতিবেদন বিবরণ ও চিঠিপত্র ইত্যাদি।
সরকারি প্রতিবেদন: সরকারি আধিকারিকরা, গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারী, পুলিশ বা গোয়েন্দা প্রকৃতিরা বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবেদন পাঠাতো সরকারের কাছে। আন্দোলন বা গুপ্তবিপ্লবী কার্যকলাপ সব ধরনের প্রতিবেদনই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণা
বিশেষ কমিশনের প্রতিবেদন: সরকার বিশেষ বিশেষ সমস্যার জন্য কমিশন গঠন করে এবং সেই কমিশন সরকারকে রিপোর্ট জমা দিত। এই রিপোর্টে বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়। সাইমন কমিশন, হান্টার কমিশন প্রভৃতি প্রতিবেদন থেকে ঐতিহাসিক উপাদান সংগ্রহ করা যায় তাই এই প্রতিবেদনগুলি গুরুত্বপূর্ণা
চিঠিপত্রের আদান-প্রদান: সরকারি ব্যবস্থায় চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসনকর্তাদের চিঠিপত্রের ব্যাপক আদান-প্রদান ঘটত। এই চিঠিপত্রের মাধ্যমে তারা শাসনকার্য পরিচালনায় বিভিন্ন প্রস্তাবের যেমন আলোচনা করতেন, তেমনি কোন শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধানের জন্য চেষ্টা করতেন। যেমন 1905 খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি ছিল তা লর্ড কার্জনের চিঠি থেকে জানা যায়।
উপসংহার: সরকারি নথিপত্র থেকে ইতিহাস রচনা করতে গেলেও গবেষকদের সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়।কারণ পুলিশ ঘোয়েন্দা ও সরকারি আধিকারিকদের রিপোর্ট অনেক ক্ষেত্রে ভুল ও বিকৃত থাকে।তবে এইসব তথ্যকে অন্য তথ্যের সঙ্গে যাচাই করে ইতিহাস রচনা করলে প্রকৃত ইতিহাস রচনা করা সম্ভব।

0 Comments