জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়- প্রথম পর্ব

মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান | ক্লাস টেন জীবনবিজ্ঞান | Madhyamik life Science | WBBSE life Science

1. পিটুইটারিকে প্রভুগ্রন্থি (মাস্টার গ্ল্যান্ড) বলে কেন ?

Ans: পিটুইটারি গ্রন্থির হরমোন সরাসরি দৈহিক কাজ কম করলেও এই গ্রন্থির হরমোন অন্যান্য গ্রন্থির হরমোনের ক্ষরণের ওপর প্রভাব বেশি। মূলত পিটুইটারি গ্রন্থিই অন্যন্য গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এজন্য পিটুইটারি গ্রন্থিকে প্রধান বা গ্রন্থি রাজ বা প্রভু গ্রন্থি বলা হয়।

2. স্নায়ুগ্রন্থি বা নার্ভ গ্যাংলিয়ন কী ? এর কাজ কী?

Ans: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে অসংখ্য নিউরোনের কোশদেহ মিলিত হয়ে যে গ্রন্থি সৃষ্টি করে তাকে স্নায়ুগ্রন্থি বা নার্ভ গ্যাংলিয়ন বলে।

কাজ – স্নায়ু উৎপন্ন করা, নিউরোসিক্রেটারি পদার্থ ক্ষরণ করে স্নায়ুকে সিত্ত রাখা।

3. সাইন্যাপস কী ? এর কাজ কী ?

Ans: দু'টি নিউরোনের সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরোন শেষ এবং অপর নিউরোন শুরু হয় সেই সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস বা প্রান্তসন্নিকর্ষ বলে।

কাজ- এক নিউরোন থেকে অপর নিউরোনে স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণ করা এর মুখ্য কাজ।

4. ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

Ans: প্রথমত, ট্রপিক চলন উদ্দীপকের উৎস বা গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আর ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

দ্বিতীয়ত, ট্রপিক হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়, তবে ন্যাস্টিক চলন কোনো প্রকার হরমোনের কোনো প্রভাব নেই।

5. কেমোন্যাস্টিক চলন বলতে কী বোঝো ?

Ans: রাসায়নিক পদার্থের তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের রসস্ফীতিজনিত আবিষ্ট বক্র চলনকে কেমোন্যাস্টিক চলন বলে। যেমন - পতঙ্গের স্পর্শে সূর্যশিশিরের পত্ররোমের চলন।

6. সিসমোন্যাস্টিক চলন বলতে কী বোঝো ?

Ans: স্পর্শ উদ্দীপনা বা আঘাতজনিত উদ্দীপনার তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ অঙ্গের রসস্ফীতিজনিত আবিষ্ট বক্রচলনকে সিসমোন্যাস্টিক চলন বলা হয়। যেমন- লজ্জাবতীর স্পর্শে মুড়ে যাওয়া।

7. ট্যাকটিক চলন ও ন্যাস্টিক চলনের পার্থক্য লেখো।

Ans: প্রথমত, ট্যাকটিক চলন উদ্ভিদের এক প্রকার সামগ্রিক চলন বা গমন আর ন্যাস্টিক চলন উদ্ভিদের বক্রচলন।

দ্বিতীয়ত, ট্যাকটিক চলন উদ্দীপকের গতিপথ বা তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় কিন্তু ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়

8. থাইরক্সিনের দু'টি কাজ লেখো।

Ans: (i) মৌল বিপাকীয় হার নিয়ন্ত্রণ করে ও লোহিত রক্তকণিকার ক্রমপরিণতিতে সাহায্য করে।

(ii) শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাটের বিপাক ক্রিয়ার হার বৃদ্ধি করে।

9. উদ্ভিদের বীজ ও পর্বমধ্যের ওপর জিব্বেরেলিন হরমোন কী কী প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা করো।

Ans: জিব্বেরেলিন বীজের সুপ্ত দশা ভঙ্গ করে অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করে। জিব্বেরেলিন উদ্ভিদের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায়।

10. ADH-এর পুরো নাম উৎস ও কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর: ADH-এর পুরো নাম অ্যান্টি ডাইইউরেটিক হরমোন। এর উৎস পিটুইটারির পশ্চাদভাগ। এটি বৃক্কীয় নালির পুনঃশোষণে সহায়তা করে।

11. কৃষির ফলন বৃদ্ধি ও আগাছা সমস্যা সমাধানে সংশ্লেষিত উদ্ভিদ হরমোনের একটি করে ভূমিকা বিশ্লেষণ করো |

উত্তরঃ কৃষির ফলন বৃদ্ধি- অধিক পরিমাণ ফলন উৎপাদন ও বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম জিব্বেরেলিন হরমোন প্রয়োগ করা হয়।

আগাছা সমস্যা সমাধান- কৃষিক্ষেত্রে জন্মানো আগাছা মাটি থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা হ্রাস করে অপরদিকে ফসলের মধ্যে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে ফলন কমায়। তাই কৃত্রিম অক্সিন হরমোন প্রয়োগ করে কৃষি ক্ষেত্রকে আগাছা মুক্ত করা হয়।

12. জিওট্রপিক চলন কাকে বলে ?

Ans: উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন অভিকর্ষের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে জিওট্রপিক চলন বলে। যেমন- উদ্ভিদের মূল অভিকর্ষের টানে মাটির গভীরে প্রবেশ করে।

13. অক্সিন হরমোনের দুটি কাজ লেখো।

Ans: অক্সিন হরমোনের কাজ উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা অক্সিন হরমোনের প্রধান কাজ। এটি কোশের বৃদ্ধি, মুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঞ্চলের কোশ বিভাজন ও ক্যাম্বিয়ামের সক্রিয়তায় সাহায্য করে। ও অক্সিন হরমোন উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে।

14. জিব্বেরেলিনের প্রধান কাজ কী ?

Ans: জিব্বেরেলিনের প্রধান কাজগুলি হল-

(i) খর্বাকার উদ্ভিদের বৃদ্ধি, কাক্ষিক মুকুলের পরিস্ফুটন এবং (ii) বীজের সুপ্ত অবস্থা ভঙ্গ করতে সাহায্য করা।

15. নিম্নলিখিত ক্রিয়াগুলির মধ্যে কোণগুলি সহজাত বা কোণগুলি অর্জিত প্রতি বর্তমান প্রতিবর্ত ক্রিয়া তা তালিকা ভুক্ত কর-

সদ্যোজাতের স্তন্যপানের ইচ্ছা,সাইকেল চালানো

হাঁচি,ক্ষিপ্রতার সঙ্গে উইকেট কিপারের বল ধরা

উত্তর: সদ্যোজাতের স্তন্যপানের ইচ্ছা- সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া

সাইকেল চালানো- অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া

হাঁচি-সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া

ক্ষিপ্রতার সঙ্গে উইকেট কিপারের বল ধরা অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া

16. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র-এর অংশ গুলি লেখো।

উত্তর: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র-এর ২ টি অংশ। অংশ দুটি হল- মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকান্ড।

প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র-এর ২ টি অংশ। অংশ দুটি হল-করোটিক স্নায়ু ( ১২ জোড়া) ও সুষুন্না স্নায়ু (৩১ জোড়া)।

17. হরমোন উৎপাদক গ্রন্থিকে অনাল গ্রন্থি বলে কেন?

উত্তর: হরমোন উৎপাদক গ্রন্থির কোনো নালি থাকে না, ফলে এই গ্রন্থির ক্ষরিত রস (হরমোন) গ্রন্থিকলার বাইরে আসতে পারে তাই হরমোন উৎপাদক গ্রন্থিকে অনাল গ্রন্থি বলে।

18. পিটুইটারিকে প্রভুগ্রন্থি (মাস্টার গ্ল্যান্ড) বলে কেন?

Ans: পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনগুলি দেহের অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির বৃদ্ধি ও ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করায় একে প্রভুগ্রন্থি বলে। যেমন - থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি করে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

19. ট্রপিক ও স্থানীয় হরমোন কাকে বলে?

Ans: যেসকল হরমোন উৎসস্থল থেকে বাহিত হয়ে অন্য স্থানে ক্রিয়া করে তাকে ট্রপিক হরমোন বলে। যেমন- ACTH, TSH

যে সকল হরমোন উৎসস্থলে ক্রিয়া করে তাকে স্থানীয় বা লোকাল হরমোন বলে। যেমন- টেস্টোস্টেরন।

20. হাইপোথ্যালামাসকে প্রভুগ্রন্থির প্রভু বলে কেন?

উত্তরঃ পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত হরমোন দেহের অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে বলে একে প্রভুগ্রন্থি বলে। হাইপোথ্যালামাসের নিউরোসিক্রেটরি কোশ ক্ষরিত হরমোনসমূহ পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই কারণে হাইপোথ্যালামাসকে প্রভুগ্রন্থির প্রভু বলে।